জামিনে কারামুক্ত হলে গত ১১ মে সন্ধ্যায় গোপনে যুক্তরাষ্ট্রের ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রদূত তার বাসভবনে গিয়ে বৈঠক করেন। সে সময় সংশ্লিষ্ট নির্ভরযোগ্য সূত্র কালবেলাকে জানিয়েছিল, যুক্তরাষ্ট্রের ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রদূত আওয়ামী লীগ দলের অভ্যন্তরীণ সংস্কারের মাধ্যমে রাঝনৈতিক কার্যক্রমে ফিরে আসতে পারে কীভাবে তা নিয়েই ওই বৈঠকে আলোচনা হয়েছে বৃহদাকারে।
বর্তমান প্রেক্ষাপট: রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, গতকাল সাবের হোসেন চৌধুরীর সঙ্গে তিন বিদেশি রাষ্ট্রদূতের যে বৈঠক হয়েছে তা বোঝার জন্য আওয়ামী লীগের বর্তমান অবস্থানকে বিবেচনায় রাখা জরুরি। ২০২৪ সালের আগস্টে ছাত্র-জনতার আন্দোলনের মাধ্যমে শেখ হাসিনার ১৫ বছরের শাসনের অবসান ঘটে। এর পর দলটির হাজার হাজার নেতাকর্মী গ্রেপ্তার, এমনকি হত্যাকাণ্ডের শিকার হওয়ার অভিযোগ উঠেছে।
সাবের হোসেন চৌধুরী নিজেও ২০২৪ সালের অক্টোবরে গুলশান থেকে গ্রেপ্তার হয়েছিলেন, একটি হত্যা মামলাসহ ছয়টি মামলায়। যদিও পরবর্তী সময়ে জামিন পেয়ে কারাগার থেকে বেরিয়ে এসেছেন। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে আওয়ামী লীগের অনেক নেতা দেশ ছেড়ে বিদেশে আশ্রয় নিয়েছেন।
উত্তর ইউরোপের তিনটি দেশ নরওয়ে, সুইডেন ও ডেনমার্ককে স্কেন্ডিনেভিয়ান দেশ নামে পরিচিত। আর অধুনা উত্তর ইউরোপের পাঁচটি দেশ নরওয়ে, সুইডেন, ডেনমার্ক, ফিনল্যান্ড ও আইসল্যান্ডকে বলা হয় নর্ডিক রাষ্ট্র। স্ক্যান্ডিনেভিয়ান দেশগুলো বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় উন্নয়ন সহযোগী। জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলায় গঠিত তহবিল থেকে শুরু করে মানবাধিকার পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ পর্যন্ত তাদের বিচরণ রয়েছে। বিগত দশকগুলোতে নর্ডিক-বাংলাদেশ সম্পর্ক পরিণত ও আরও বিস্তৃত হয়েছে।
সোমবারের বৈঠকের বিষয়ে অবগত সূত্রটির মতে, সাবের হোসেন চৌধুরী নিজে সাবেক পরিবেশমন্ত্রী হিসেবে এই দেশগুলোর সঙ্গে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ রেখেছেন।
এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে বিভিন্ন মাধ্যমে সাবের হোসেন চৌধুরীর সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার সঙ্গে কথা বলা সম্ভব হয়নি।

0 Comments