![]() |
| প্রশ্ন উঠেছে জুলাই-আগস্টে ছাত্রদের আন্দোলনে খরচ হওয়া অর্থের উৎস নিয়ে। |
প্রতিবেদন প্রকাশ করলেও ডব্লিউিইউসি এখনো এই গুরুতর অভিযোগের বিষয়ে কোনো পদক্ষেপ নেয়নি। বর্তমানে সংগঠনটি নেতৃত্ব পরিবর্তনের পর্যায়ে রয়েছে। তবে, অভ্যন্তরীণ বিরোধ দেখা দিয়েছে এবং কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রার্থী অনির্দিষ্ট কারণে অনুপস্থিত রয়েছেন।
এনইডির দাবি, তারা কোনো রাজনৈতিক প্রচারণায় অর্থায়ন করে না। তবে বাস্তবে এটি বিভিন্ন দেশের নির্বাচনে প্রভাব ফেলেছে। নিকারাগুয়া ও মঙ্গোলিয়ায় নির্বাচনকে প্রভাবিত করতে এনইডি সক্রিয়ভাবে কাজ করেছে। এছাড়া পূর্ব ইউরোপে গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত সরকারগুলোকে পতন ঘটাতেও ভূমিকা রেখেছে। ভেনেজুয়েলায় এটি বিরোধী দলগুলোকে সহায়তা করেছে।
বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তার সরকারকে উৎখাতের পেছনে আরও একটি নাম এসেছে আন্তর্জাতিক মিডিয়ায়।
ফাইন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেসের গত ১০ ফেব্রুয়ারির প্রতিবেদনে বলা হয়, হাঙ্গেরিয়ান-আমেরিকান ধনকুবের জর্জ সরোসের সংগঠনগুলো রাজনৈতিক বিষয়ে প্রভাব বিস্তার ও বিভিন্ন দেশকে অস্থিতিশীল করতে ইউএসএআইডি থেকে ২৬০ মিলিয়ন ডলার পেয়েছে। এসব দেশের মধ্যে ভারত ও বাংলাদেশও রয়েছে।
ট্রাম্প সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র সোশাল মিডিয়া এক্সে অভিযোগ করেছে, “জর্জ সরোস ২৬০ মিলিয়ন ডলার পেয়েছিলেন ইউএসএআইডির কাছ থেকে। এই অর্থ ব্যবহার করা হয়েছে শ্রীলঙ্কা, বাংলাদেশ, ইউক্রেন, সিরিয়া, ইরান, পাকিস্তান, ভারত, যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্রে অস্থিরতা সৃষ্টি, সরকার পরিবর্তন ও ব্যক্তিগত লাভের জন্য।”

প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ১৫ বছরে ইউএসএআইডি ইউএসএআইডি সরোসের সংগঠনগুলিকে ২৭০ মিলিয়ন ডলারেরও বেশি অর্থ দিয়েছে। এমন একটি সংগঠন, ইস্ট-ওয়েস্ট ম্যানেজমেন্ট ইনস্টিটিউট, সরোসের ওপেন সোসাইটি ফাউন্ডেশনের সঙ্গে সহযোগিতা করে এবং ইউএসএআইডি থেকে তহবিল পেয়েছে। এই তথ্য প্রকাশের পর আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক আন্দোলনে যুক্তরাষ্ট্র সরকারের ভূমিকা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।
ভারতের শাসক দল ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) দীর্ঘদিন ধরে সরোসকে বিরোধী দলগুলোকে সমর্থন ও প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সমালোচকদের অর্থায়ন করার অভিযোগে অভিযুক্ত করে আসছে। বিজেপি নেতারা দাবি করেন, সরোসের উদ্যোগ ভারত সরকারে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির লক্ষ্যে এবং জাতীয় রাজনীতিতে হস্তক্ষেপ করার উদ্দেশ্যে পরিচালিত হচ্ছে।
বাংলাদেশ ও ইউএসএআইডি
বাংলাদেশ ২০২২ সালে ৫ দশমিক ১২ বিলিয়ন ডলার সরকারি উন্নয়ন সহায়তা (ওডিএ) পেয়েছে। ইউএসএআইডি ২০২২ সালে ৪৬৯ মিলিয়ন ডলার বিতরণ করেছিল, যা ২০২৪ সালে ৪৪৮ মিলিয়ন ডলারে কমেছে।
ইউএসএআইডি বাংলাদেশের একটি বড় অংশীদার, বিশেষ করে জরুরি খাদ্য সহায়তা (৯৮ দশমিক ৮ মিলিয়ন ডলার), খাদ্য উন্নয়ন (৩৪ দশমিক ২ মিলিয়ন ডলার) এবং রোহিঙ্গা (২৪ দশমিক ৭ মিলিয়ন ডলার) ক্ষেত্রে।
বাংলাদেশ ২০২৪ সালে ইউএসএআইডি থেকে স্বাস্থ্য কার্যক্রমের জন্য প্রায় ৪০ মিলিয়ন সহায়তা পেয়েছে।
তথ্যসূত্র : টাইমস অব ইন্ডিয়া, ফাইন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেস, এক্স, দ্য সানডে গার্ডিয়ান, নিউ ইয়র্ক টাইমস।

0 Comments